শনিবার, ৬ জুন, ২০১৫

অনলাইনে ইমেজ আপলোড এবং হোস্টিং করার সেরা ফ্রি সাইট !!! (রিভিউ)


নানা কাজে বেকাজে অনলাইনে ইমেজ আপলোডের প্রয়োজন পড়ে। এর জন্য রয়েছে পকেটের টাকায় কেনা নিজস্ব হোস্টিং অথবা কোন ফ্রি ইমেজ হোস্টিং সাইট। কাজ হলে তো নিজস্ব হোস্টিং সাইটেই ইমেজ আপলোড দিতে পারেন কিন্তু অকাজের হলে? এর জন্য তো ফ্রি রাস্তা খোঁজা ছাড়া অন্য কোন উপায় নাই! আবার সবার তো নিজের হোস্টিংও নাই। তাই হোস্টিং আপাতত দশ হাত দুরে রাখি এতে টাকা পয়সার মামলা পোস্টে ঠাই পাবেনা। আমরা এখন ফ্রি মাল থুক্কু ফ্রি ইমেজ হোস্টিং নিয়ে কথা বলব আর কি। শিরোনামেই সাইটটির নাম বলতে চেয়েছিলাম। তবে শুধু চমকের জন্যই লিখলাম না। সাইটটি আমাদের সবার পরিচিত কিন্তু অনেকেই সামান্য মাথা খাটানোর অভাবে সেটিকে কাজের মতো কাজে লাগাতে পারিনা। যারা নতুন বা যাদের মাথায় এখনও ব্যাপারটি ঢুকেনি তাদের মাথায় ঢুকানোর জন্য লিখছি। অবশেষে বলতে যাচ্ছি সেই পরিচিত সাইটটির নাম। সেটি আর কোন সাইট নয়। আমাদের প্রিয় "ব্লগস্পট" ! হ্যাঁ, সবাই তো ব্লগস্পটে ব্লগিং করেন, ইমেজ আপলোড দেন। কিন্তু অন্যান্য অনেক জায়গাতেই ইমেজ দেখাতে কাজে লাগাতে পারেন এই ব্লগস্পট।
এখন আবার আমার মাথায় আরেকটি কথা খেলছে! এখন ভাবছি, অনেকেই তো একদম নতুন আছেন। তাঁরা তো কিছুই বুঝবেনা এইসব ইমেজ হোস্টিং ব্যাপারে। তাদেরকে সহজে বলি, এই যে ভাই আমরা অনলাইনে যেটাই দেখছি না কেন এটা কোথাও না কোথাও রাখা হয়েছে এটাকেই হোস্ট করে রাখা বলে। অর্থাৎ আমরা তো ওয়েব হোস্টিং এর কথা শুনি। তাঁর মানে আমার ওয়েব সাইটটিকে ইন্টারনেটে সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখাকেই ওয়েব হোস্টিং বলে। আর এই যে ইন্টারনেটে রাখছেন তা কিন্তু ফাও ফাও না। এর জন্যই মূলত কেনা বা ভাড়া করে নিতে হয় সার্ভার। কিন্তু আমাদের মাঝে প্রায় বেশিরভাগ পাবলিকই তো আছেন যাদের নিজের ভাড়া করা সার্ভার বা হোস্টিং স্পেস নেই। তাঁরা কোথায় রাখবে? তাদের জন্যই আবার নেটে রয়েছে হাজার হাজার সাইট যেগুলো ফাও ফাও হোস্টিং করায়। কিন্তু সেগুলোতে রয়েছে হাজারো রকমের লাল নীল রঙের শর্ত!!! হাহাহাআ... এর মধ্য থেকে একটি টপিকস হল ইমেজ হোস্টিং। ওই যে একটি কথা বলছি অনলাইনে যাই রাখেন না কেন টাকা গুণতে হয় আবার ফাও ফাও রাখতে চাইলে অনেক সাইটের আশ্রয় নিতে হয়! যেমন ধরেন ইউটিউবে এক জিবি সাইজের একটা ভিডিও আপলোড করলেন পুরাই সেইরাম ফ্রিতে! কিন্তু এর মানে নয় ফ্রি! আপনার ভিডিও হোস্টিং এর খরচ ইউটিউব বহন করছে। বোঝা গেছে জিনিসটা? কাউকে ভিডিও দিতে হলে তো মনে হয় ইউটিউবেই আপলোড দিবেন। তেমনি ইন্টারনেটে বিনা পয়সায় ইমেজ রাখতে হলেও এমন নানা সাইট রয়েছে। কিন্তু বললাম তো সবারই নানা শর্ত রয়েছেই। সবারই রয়েছে সীমাবদ্ধতা। এরকম কয়েকটি খুবই জনপ্রিয় ফ্রি ইমেজ হোস্টিং সাইট হলঃ imgur, flicr, photobucket, postimg ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশি বিস্তারিত বলবোনা তাই বললাম না। এদের সাইটের খোঁজ নিয়ে এদের লিমিটেশন গুলো সম্পর্কে জেনে নিন। কিন্তু আমি ব্লগস্পট এর কথা বললাম কেন এতোগুলো জনপ্রিয় ইমেজ হোস্টিং সাইট থাকতে? সে সম্পর্কেই যুক্তি এবং ইমেজ হোস্ট করার পদ্ধতিটা শেয়ার করব আজ।
বিশ্বস্ততাঃ কেন ব্লগস্পট -কে বিশ্বাস করবোনা বলেন? বিশ্বাস করবো এই কারনেই যে ব্লগস্পট আমাদের প্রতিটা পাবলিকের প্রান প্রিয় সাইট গুগলের অন্তভুক্ত। অর্থাৎ ব্লগস্পট হলো গুগলের মালিকানাধীন। আর অনলাইনে বিশ্বাসের মাপামাপি করলে তো গুগলকেই সবার আগে স্থান দিতে হবে। নাকি? আর গুগলের প্রতিটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহস বা ইচ্ছে আমার নাই।
আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেসঃ আসলে আনলিমিটেড বলাটা মূলত ভুলই হয়ে গেল। এখানেও সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমি সেটাকে সীমাবদ্ধতা বলব না। একটি জিমেইল আইডি দিয়ে আপনি ১০০ টি ব্লগ খুলতে পারবেন। আর ১ টি ব্লগে ১ জিবি ইমেজ আপলোড দিতে পারবেন। তাহলে কত হলো? হিসেবে দাড়ালো ১০০ জিবি অর্থাৎ ১০২৪০০ মেগাবাইট জায়গা যাতে আপনি ফ্রি ইমেজ আপলোড দিবেন। তারপর আসি আরকটা জিমেইল একাউন্ট সম্পর্কে। মাশাল্লাহ, আমাদের কারো কম জিমেইল আইডি নাই। তাই বলি কি আগে এই লাখ খানেক ইমেজ হোস্টিং শেষ করেন তারপর নাহয় আরেকটা জিমেইল আইডি দিয়ে লগিন করে সেটা ডাবল করে নিবেন!!! সবশেষে এটাকে আনলিমিটেড বলা ছাড়া আর কি বলব?
আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথঃ বিশেষণ লাগানোর প্রয়োজন নেই। এক কথায় ব্লগস্পটে নেই কোন ব্যান্ডউইথ লিমিটেশন। সো নো টেনশন ডু ফুর্তি।
এখন আসি কিভাবে ব্লগস্পটে ইমেজ আপলোড করে সেটাই লিংক পাবো? আশা করি সবারই ব্লগস্পট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে। তাই অল্প কথায় বলার চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ বুঝতে সমস্যা হবেনা।
প্রথমে ব্লগে একটি New Post খুলুন।
এখন Insert Image আইকনে ক্লিক করে যথানিয়মে কম্পিউটার থেকে ইমেজ আপলোড করুন।
এখন আপনি Compose Mode এ আছেন। তাই ইমেজের লিংকটা পেতে HTML Mode এ যান। তারপর ইমেজের লিংক দেখতে পাবেন। নিচের স্ক্রিনশটটা লক্ষ্য করুন তাহলেই সেইরাম পরিষ্কার হয়ে যাবে। আরও পরিষ্কার করি। ইমেজের লিংক সাধারনত দেখতে অনেকটা এরকম হবেঃ
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiuthxxeglyzgurPx4xY9JZE2NxNbO6iVUMMCOiwyAnZ3Ep9ZsykXYdaEl6SligGaGK5C0FBkJmm9G9U6RCQF2a8zh59hZQ2_uSC9duHimz4hnxFU0xnPltKQRFGjuVPhOU7tTJ4QkAclZh/s1600/Bliss-Windows-XP.png
এইতো হয়ে গেল ফ্রি ইমেজ হোস্টিং। ইমেজ লিংক এখন অনলাইনে যেকোথাও ব্যবহার করতে পারেন। যেমন লক্ষ্য করে থাকবেন বাংলাদেশী মিউজিক ডাউনলোড সাইটগুলোতে ইমেজগুলো নিজেদের হোস্টিং এ আপলোড না দিয়ে বিভিন্ন এরকম আপলোডিং সাইটে আপলোড করেন। কারণ তো বুঝে গেছেন নাকি? না বুঝলে আবারো বলি। ওই যে নিজের হোস্টিং এ আপলোড দিলেই তো পকেটের পয়সা যাবে তাই আর কি।

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০১৫

ওয়েব হোস্টিং কী?

লেখেছেন : মোঃ আরাফাত রহমান 

আসসালামুয়ালাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আমি আলহামদুলিল্লাহ্ ভাল আছি । আজ থেকে শুরু করতে যাচ্ছি ওয়েব হোস্টিং টিউটোরিয়াল এর ধারাবাহিক পর্ব । আজ আমি আলোচনা করবো ওয়েব হোস্টিং নিয়ে । এখন, কথা না বাড়িয়ে চলুন আলোচনা শুরু করা যাক;
মনে করুন, আপনি একজন ওয়েব ডেভেলপার । আপনি আপনার কম্পিউটার এ একটি ওয়েব সাইট তৈরি করলেন । এখন আপনার ওয়েবসাইট সকলের নিকট প্রদর্শন করাতে চান, এখন তা কিভাবে করাবেন?
ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে এমন একটি সেবা যার মাধ্যমে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে তা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড প্রদর্শন করতে পারবেন । আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন তখন সেই ওয়েবসাইটের কিছু ফাইল থাকে এবং ফাইলসমূহ ওয়েব সার্ভার এ আপলোড করা থাকে । অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট ওয়েব হোস্টিং এ হোস্ট করা করা থাকে । ওয়েব সার্ভার হচ্ছে একটা কম্পিউটার এর মত । যেখানে আপনার ওয়েবসাইট এর কন্টেন্টসমূহ ২৪/৭ অনলাইন এ আপলোড থাকে । এতে, ভিজিটর যখন ইচ্ছে ওয়েবসাইট এ ভিজিট করতে পারে ।
যারা ওয়েব হোস্টিং সেবা প্রদান করেন তাদের বলা হয় হোস্টিং প্রভাইডার । যারা ওয়েব হোস্টিং নিতে চান তারা হোস্টিং প্রভাইডারের নিকট নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে হোস্টিং নিয়ে থাকেন । এরপর, ওয়েব হোস্টিং প্রভাইডার গ্রাহককে একটি কন্ট্রোল প্যানেল দিয়ে থাকেন যার মাধ্যমে ওয়েব সাইট পরিচালনা করা হয় । ওয়েব হোস্টিং এর পরিমান উপর ভিত্তি করে টাকার পরিমান নির্ধারণ করা হয় । এক্ষেত্রে, আপনার যতটুকু ডিস্কস্পেস প্রয়োজন হবে ততটুকু ক্রয় করতে পারেন ।

বুধবার, ৩ জুন, ২০১৫

ডোমেইন নেম সিস্টেম এবং ওয়েব হোস্টিং কি এবং যেভাবে কাজ করে- পর্ব ১

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। প্রতিদিনই দেখা যায় আমরা কিছু ওয়েব সাইট, ব্লগ ভিজিট করি। অনেক সময় আমাদের অনেকের নিজের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েব সাইট তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ওয়েব সাইটের ডোমেইন নেম এবং হোস্টিংয়ের বিষয়টি অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়। আমি সহজ ভাবে আপনাদের বিষয়গুলো বুঝানোর চেষ্টা করছি ।
ওয়েব সাইট হোস্টিং কি?
কোন তথ্যকে অন্যের কাছে তুলে ধরার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ মাধ্যম হচ্ছে ওয়েবসাইট। আজকের কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই ওয়েবসাইট সম্পর্কে অবগত আছেন। সহজ ভাষায় বলা যায়, ওয়েবসাইট হল আপনার তথ্যকে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার রাস্তা- সেটা টেক্সট বা মাল্টিমিডিয়া (যেমনঃ ছবি, অডিও বা ভিডিও) যে কোন ধরনের হতে পারে। ওয়েবসাইটে সেগুলো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা ওয়েব ডেভেলপারের কাজ। আর আপনার ওয়েবসাইটটি অন্যদের দেখার জন্য উপযোগী করাই ওয়েব হোস্টিং নামে পরিচিত ।
আপনার ওয়েবসাইটটিকে যদি তুলনা করা হয় আপনার প্রতিষ্ঠানের অফিস বিল্ডিং হিসাবে, তবে তার তথ্য বা কনটেন্ট হবে এর আসবাবপত্র। আর ওয়েবসাইট ডেভেলপ করাকে তুলনা করা যাবে বাড়িটি তৈরি করার সাথে। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইট হোস্টিংকে তুলনা করা যায় আপনার অফিস বিল্ডিংয়ের জন্য জায়গা কেনা এবং সে জায়গায় বাড়িটি তৈরি করার সাথে। তবেই ভিজিটররা ওয়েবসাইটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।
ডোমেইন নেম কি?
আগের উদাহরনে ফিরে যায় । আপনার অফিসে যদি কেউ আসতে চায়, তবে তাকে এর ঠিকানা জানতে হবে । ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই ঠিকানাটা হচ্ছে তার নাম যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম । এই ডোমেইন নেমই আপনার ওয়েবসাইটকে অনন্যভাবে আইডেন্টিফাই করবে । বিশ্বের সবাই ওয়েবসাইটটিকে চিনবে এবং একসেস করবে এ নাম ব্যবহার করে ।
ডোমেইন নেম সিস্টেম (DNS) কি?
কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সফটওর্য়ার কিন্তু কোনো ডোমেইন নেমকে সরাসরি বুঝে না। সে বুঝে নেটওর্য়াক অ্যাড্রেস বা আইপি অ্যড্রেস। তাই প্রত্যেক ডোমেইন নেমের সাথে একটা আইপি অ্যাড্রেস এসাইন করা হয়। ডোমেইন নেম ব্যবহার না করে এ আইপি অ্যড্রেস দিয়েও সরাসরি ওযেবসাইটটিতে যাওয়া যায়। আইপি অ্যাড্রেস মনে রাখা বেশ কঠিন, সাধারণত ১২ অংকের সংখ্যা হয়। তাই বাস্তবে সবাই ডোমেইন নেম ব্যবহার করে।
কিন্তু আপনার কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস জানা দরকার যে কোন ধরনের কমিউনিকেশনের জন্য। সর্বপ্রথম নেটওর্য়াক ARPANET -এর সময় host.txt নামে একটা ফাইলে সব কম্পিউটারের নাম আর তার আইপি অ্যাড্রেস লিখে রাখা হত । যখন নেটওয়ার্কে কোটি কোটি কম্পিউটার থাকে, তখন এভাবে আইপি অ্যাড্রেস লিখে রাখা সহজ কথা নয় । কারন প্রতিনিয়ত আইপি অ্যড্রেস সংযুক্ত হয় এবং পরিবর্তিত হয়। এ সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক, ডায়নামিক এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটাবেজ সম্বলিত একটা সিস্টেম দাঁড় করানো হয়েছে, যাকে বলা হয় ডোমেইন নেম সিস্টেম।
ডোমেইন নেমকে কতগুলো লেভেলে ভাগ করা হয়ে থাকে । প্রায় ২৪০ টি টপ লেভেল ডোমেইন আছে, বাকি সবই থাকে এদের অধীনে একটা ট্রি স্ট্যাকচারে । ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে প্রায় ১৯ টি টপ লেভেল ডোমেইন আছে । এর মধ্যে সাধারণ সব ওয়েবসাইটের জন্য .com, ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটের জন্য .biz, খবর ও অনান্য ইনফরমেশন সাইটের জন্য .info, নন প্রফিটেবল অর্গানাইজেশনের জন্য .org, অনলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেনর জন্য .net। আবার প্রায় প্রত্যেক দেশের রয়েছে নিজস্ব টপ লেভেল ডোমেইন, যেমনঃ ব্রিটেনের .uk, জাপানের .jp, যুক্তরাষ্টের .us বাংলাদেশের .bd ইত্যাদি।

আপনি কি ব্লগিং করে আয় করার কথা ভাবছেন ? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই।


আসসালামু আলাইকুম। পরম করুণাময় এবং অতিশয় দয়ালু আল্লাহ্র নামে শুরু করছি। অনলাইনে আয়ের রয়েছে হাজার উপায়। কিন্তু তার মধ্যে একটি হল ব্লগিং করে আয়। ব্লগিং বলতে আমরা বুঝি কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি যা থেকে আয় করা যায়। আসলে ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে আয় করা সম্ভব। এর মধে র্যেছে গুগল এডসেন্স। গুগল কে তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না, আর এই গুগল এর একটি প্রোডাক্ট হচ্ছে গুগল এডসেন্স। তাছাড়াও ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আপনি বিভিন্ন ভাবে আয় করতে পারেন। নিচে আপনি নতুন অবস্থায় যে যে উপায়ে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারেন তার বিবরণ দেয়া হল-

১. গুগল এডসেন্স থেকে ঃ গুগল এডসেন্স দিয়ে আয় করতে হলে আপনাদের অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে। সিস্টেমটা হচ্ছে আপনাকে প্রথমে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানাতে হবে। তারপর এতে ভিজিটর  আনতে হবে। ভিজিটর আসা শুরু করলে আপনার সাইটে আপনি গুগল এর কাছে বিজ্ঞাপনের জন্য আবেদন করতে হবে। সাইট্টি যদি ভাল মানের হয় তাহলে গুগল আপনার সাইটে তাদের বিজ্ঞাপন দেয়ার অনুমতি দিবে। অনুমতি পেলেই আপনি আপনার সাইটে গুগল এডসেন্স থেকে বিজ্ঞাপন পেয়ে যাবেন যা আপনাকে আপানার সাইটে বসিয়ে দিতে হবে। পরে আপনার কোন ভিজিটর ঐ বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে গুগল আপনাকে টাকা দিবে। এই হল এডসেন্স এর পুরো সিস্টেম।

২. পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ঃ আপনি আপনার ব্লগের মাধ্যমে আপনার বা আপনার কোম্পানির পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার আয় হবে আপনার সেলের উপর নির্ভরশীল। আপনার যত বেশি সেল হবে আপনি তত আয় করতে পারবেন। তবে ব্লগের একটি বিশেষ সুবিধা হল কোন পন্য সম্পর্কে আপনার বিভিন্ন জনের কাছে একই কথা বার বার বলতে হবে না। একবার সাইটে লিখে দিলেই যথেষ্ট। এইভাবে পণ্য বিক্রি করেও আপনি আয় করতে পারেন।

৩. এফিলিয়েট মার্কেটিং ঃ এটিও অনেকেটা পণ্য বিক্রির প্রসেস। এক্ষেত্রে আপনি অনলাইন থেকেই বিভিন্ন পণ্য পাবেন এবং সেই পন্যের বিজ্ঞাপন আপনার সাইটে দিতে হবে। কেউ যদি অনালাইনে অর্ডার করে সেই পণ্য কিনে তাহলে আপনি সেখান থেকে কিছু কমিশন পাবেন। কিছু কিছু কোম্পানি আছে যারা ৫০% কমিশন ও দিয়ে থাকে। কাজেই আপনি এই এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করতে পারেন।
উপরে ব্লগিং করে বা ওয়েবসাইট দিয়ে আপনি কিভাবে আয় করতে পারেন তার কিছু ছোটখাট বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তবে ওয়েবসাইট থেকে সবচেয়ে ভাল পরিমাণ আয় করা সম্ভব গুগল এডসেন্স দিয়ে। তার জন্য চাই ভাল মানের ওয়েবসাইট। আপনি চাইলে ফ্রী ব্লগ দিয়েও ট্রাই করে দেখতে পারেন। তবে বাংলাদেশ থেকে ফ্রী ব্লগে গুগল এডসেন্সের অনুমতি দেয় না। কাজেই আমার মতে ওয়েবসাইট তৈরি করাই ভাল। কারন জানেন ই তো, ফ্রী জিনিস আর কতই বা ভাল হবে? তবে গুগল এর ফ্রী ব্লগ কিন্তু অনেক ভাল বাট গুগল বাংলাদেশে ফ্রী ব্লগে অনুমতি প্রায় দেয় না বললেই চলে। কাজেই ওয়েবসাইট তৈরি করে এডসেন্স এর জন্য আবেদন করাই উত্তম।

কি ভাবে অনলাইন থেকে টাকা আয় করবো।

একদম নতুন যারা মাত্র মাত্র অনলাইনে আয়ের নাম শুনলেন বা আগ্রহী তাদের জন্য অনলাইনে আয় সম্পর্কে সুপার এক্সক্লুসিভ পোস্ট যা না পড়লে সত্যিই অনেক বড় মিস করবেন।

অনলাইনে আয় নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে এ নিয়ে যেন উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। কিন্তু সমস্যা বাধে এ নিয়ে তেমন কোন ধারাবাহিক বা সঠিক তথ্য সম্বলিত কোন পোস্ট বা বই পাওয়া যায় না বললেই চলে। আর তাই, শুরুতেই অনেক কষ্ট করতে হয় এই পেশায় নবাগতদের। এমন সমস্যায় যদি আপনিও পড়ে থাকেন তাহলে আজকের লিখাটি বিশেষভাবে আপনার জন্যই তৈরি। এখানে আপনি অনলাইনে আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে কিন্তু ভালভাবে জানতে পারবেন। এর পাশাপাশি আপনি কিভাবে সামনের দিকে এগুবেন সেটিও জানতে পারবেন। তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

আচ্ছা অনলাইনে কি সত্যিই আয় করা যায়? নাকি পুরোটাই ভূয়া?
----------
অনলাইন হচ্ছে এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে
 সঠিক রাস্তায় হাটলে অবশ্যই আয় করা সম্ভব। এবং এই আয়টা আমাদের দেশের অনেক চাকুরীজীবীদের মার্কেটের তুলনায় অনেক ভাল। এবং এখানে রয়েছে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা।
ফ্রীল্যান্সিং সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বেশ কয়েকবার প্রচারিত হয়েছে। যদি ক্লিক করে আয় করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন তাহলে সেটি ভূলে যান। আর অনলাইনে কাজ করার জন্য আপনার কোন জামানতের বা অগ্রীম টাকারও প্রয়োজন হবে না। তবে প্তারয়োজন কঠিন পরিশ্রম এবং দক্ষতা। তাই অনলাইনে আয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন, নিজে নিরাপদে থাকুন, সফল হউন।
তাহলে চলুন শুরু করা যাক-

অনলাইনে আয় কি????
-----------------
আসলে অনলাইনে আয় বলতে এক কথায় ইন্টারনেট থেকে টাকা উপার্জনকে বোঝায়। অনলাইন থেকে আয় করার প্রথম এবং পূর্ব শর্ত হচ্ছে একটি কম্পিউটার এবং সচল ইন্টারনেট সংযোগ। এই দুটি না থাকলে অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে কিছু স্পেশাল কাজ ব্যতীত নরমাল যে কোন কম্পিউটার দিয়েই এই কাজ গুলো করা সম্ভব। এর জন্য বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন বা হাই কনফিগারেশনের কোন কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই। তবে, অতিমাত্রায় লক্কর-ঝক্কর কমিপিউটার না ব্যবহার করার-ই পরামর্শ রইল আমার।

এবার আসি কাজে? কি কাজ?
--------------
নতুনরা প্রায়ই শুনে থাকেন অমুক অই কাজ করে, আবার আরেকজন অন্য কাজ করে, তাহলে এই বিভিন্ন কাজ গুলো কি?
ইন্টারনেটকে আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে তুলনা করলে সহজেই অনলাইনে আয়ের ব্যাপারটা বোঝা সম্ভব। আমাদের বাস্তব জীবনে আমরা সাধারণত দুই ভাবে অর্থ উপার্জন করে থাকি।
১. চাকুরি
২. ব্যাবসা
ঠিক তেমনি ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতেও (ভার্চুয়াল জগত হচ্ছে যেটা ধরা যায় না, বা কম্পিউটার সংক্রান্ত) আপনি ঠিক দুই ধরনের পদ্ধতিতেই টাকা আয় করতে পারবেন।
এখানেও রয়েছে ব্যাবসা এবং চাকুরি উভয়েরই সুযোগ। এখন নতুন অবস্থায় অনলাইনে আয়ের বিষয় গুলোতে এখানেই কিন্তু সব জটিলতার সৃষ্টি হয়।
তাহলে চলুন দেখি অনলাইন থেকে ব্যাবসা করে কিভাবে আয় করা যায়
অনলাইন থেকে অনেকেই বিভিন্ন ভাবে ব্যাবসা করে আয় করে থাকেন। যেমন- এর মধ্যে অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে। আমরা জানি এখন অনলাইনে হাত ঘড়ি থেকে শুরু করে মোবাইলও ইন্টারনেট থেকে কেন যায়। আর অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রির এই ব্যাবসাকে বলা হয় ই-কমার্স বিজনেস। এছাড়াও অনলাইনের অন্যান্য ব্যাবসার মধ্যে রয়েছে- ব্লগিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি। এখানে, ব্লগিং হচ্ছে এমন এক ধরনের ব্যাবসা যেখানে আপনাকে আগে ভাল মানের তথ্য সমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এবং সেখানে এই তথ্য পড়ার বা জানার জন্য যখন বিভিন্ন লোকজন আপনার ওয়েবসাইটে আসতে থাকবে তখন সেখানে আপনি বিজ্ঞাপন বসিয়ে আয় করতে পারবেন।
যেমন ধরুন- আপনার একটি শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট আছে। এই ওয়েবসাইটে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে লিখালিখি করেন। আর আপনার এই লিখা পড়ার জন্য এক জন দুজন করে রোজ আপনার সাইটে বিভিন্ন লোক আসে, কারন আপনার লিখাগুলো মানসম্মত এবং এখান থেকে মানুষেরা উপকৃত হয়। তো এমন এক সময় আসবে যখন একজন দুইজন করতে করতে প্রচুর লোক আপনার লিখা পড়ার জন্য নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটে আসবে। এখন যেহেতু আপনার সাইটে প্রতিদিন অনেকেই আসেন আপনার লিখা পড়ার জন্য তাই আপনি ভাবলেন, ” আচ্ছা যেহেতু অনেকেই আমার সাইটে আসে প্রতিদিন তাই আমি যদি শিখা বিষয়ক আমার একটি বই বা কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন আমার লিখার সাথে দিয়ে দেই তাহলে তো কিছু বিক্রি করা সম্ভব! ” হ্যাঁ, যেই কথা সেই কাজ, আপনি আপনার লিখার পাশাপাশি কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে দিলেন। ব্যাস এতে করে ওই বিজ্ঞাপন থেকে আপনার কিছু আয়ও হয়ে যাবে। মূলত এই থিমকে কাজে লাগিয়েই গোটা পৃথিবীতে কোটি কোটি টাকার ব্লগিং মার্কেট গড়ে উঠেছে।
এবার দেখি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে কিভাবে ব্যাবসা করা যায় অনলাইনে-
ধরুন আপনার জ্বর আসল। আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার আপনাকে দেখে বললেন অমুক হাসপাতাল থেকে আপনাকে এই টেস্টগুলো করিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এখন, ভাবুন তো, ডাক্তার আপনাকে অমুক হাসপাতালের কথা কেন বললেন? টেস্ট তো যে কোন হাসপাতাল থেকেই করানো যেত! হ্যাঁ, ডাক্তার আপনাকে অমুক হাসপাতালের কথা এই জন্যই বলেছেন কারন সেই হাসপাতাল থেকে টেস্ট করালে আপনার টেস্ট এ যা টাকা আপনি হাসপাতালকে দিবেন তার কিছু অংশ ওই ডাক্তার পাবেন। এর মানে হচ্ছে ডাক্তার ওই হাসপাতালের একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কাজ করেছেন। ঠিক এটাই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এখানে, আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য অনলাইনে প্রচার চালিয়ে বিক্রি করে দিতে হয়। প্রতি বিক্রিতে ওই কোম্পানি আপনাকে কিছু কমিশন দেয়।
এইভাবে ব্যবসা করেও অনেকে অনলাইন থেকে উপার্জন করছেন।
এই তো গেল ইন্টারনেট ভিত্তিক কিছু ব্যবসার নমুনা। তাহলে চলুন দেখি ইন্টারনেটে আপনি কিভাবে চাকরিও করতে পারবেন!
ইন্টারনেটে চাকরি বা ফ্রীল্যান্সিং?
ইন্টারনেটের চাকরিটা অনেকটা আমাদের বাস্তব জীবনের মত হলেও এখানে রয়েছে অনেক সুবিধা। রিয়েল লাইফে চাকরি করতে প্রয়োজন সার্টিফিকেট, কিন্তু ইন্টারনেটে চাকরি করতে গেলে এই সার্টিফিকেটের কোন প্রয়োজন নেই, এখানে দরকার শুধু দক্ষতা। বাস্তব জীবনে যেমন চাকরির একটা গদবাধা সময় থাকে, নিয়ম থাকে, এখানে কিন্তু এমন কিছুই নেই। এখানে আপনি সম্পূর্ণই স্বাধীন বা মুক্ত। আর এই জন্যই এই চাকরিকে বলা হয়ে থাকে ফ্রীল্যান্সিং বা মুক্তপেশা।

তাহলে কোথা থেকে পাবেন চাকরী?
--------------------
হ্যা, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে থাকি। যেমন ধরুন- প্রথম আলো বা বিভিন্ন পত্রিকায় আলাদা একটি কলাম ই থাকে চাকরির বিজ্ঞাপনের জন্য, যেখানে বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের কোম্পানীতে চাকুরির জন্য বিজ্ঞাপন দেয়। এবং আমরা পত্রিকায় সেই বিজ্ঞাপন দেখে ওই কোম্পানীর সাথে চাকুরির জন্য যোগাযোগ করি।
অনলাইনের চাকুরির ব্যাপারটাও অনেকটা একই রকম। তবে এখানে, চাকুরীদাতা এবং আপনার মধ্যে একটি সিকিউর বা নিরাপদ যোগসূত্র তৈরি করার জন্য রয়েছে অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস। এই সকল মার্কেটপ্লেস গুলো মূলত হচ্ছে এক একটি ওয়েব সাইট। এই সকল সাইটে মূলত দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। একটি হচ্ছে ফ্রীল্যান্সার বা ওয়ার্কার অ্যাকাউন্ট এবং আরেকটি হচ্ছে বায়ার বা ক্লাইন্ট অ্যাকাউন্ট। একই সাইটে এই দুই ধরনের লোক থাকেন, একদল কাজ দেন এবং একদল কাজ করেন। যারা কাজ দেন তাদের বলে বায়ার বা ক্লাইন্ট, আর যারা কাজ করেন তাদের বলে ওয়ার্কার বা ফ্রীল্যান্সার।
যেমন, এই ধরনের জনপ্রিয় ফ্রীল্যান্সিং ওয়েবসাইট/মার্কেটপ্লেস হচ্ছে- আপওয়ার্ক.কম যার পূর্ব নাম ছিল ওডেস্ক.
আচ্ছা ক্লিয়ার হলেন না? তাহলে একটি উদাহরন দেখুনঃ
ধরুন- একটি অফিসের/কোম্পানীর জন্য একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন। এখন, ওই অফিসের মালিক কোথায় খুজবেন এমন একজনকে যিনি তার অফিসের জন্য
 ওয়েবসাইট তৈরি করে দিবেন?
তাই এই ধরনের একজন ওয়ার্কার খুজে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন ফ্রীল্যান্সিং সাইটে একজন ওয়েব ডিজাইনার প্রয়োজন লিখে একটি জব পোস্ট করতে পারেন। এখন যেহেতু ওই ক্লাইন্ট একজন ওয়েব ডিজাইনার চাইছেন, তাই আপনার যদি ওই ফ্রীল্যান্সিং সাইটে কোন অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে আপনি ওই ক্লাইন্টের ওই জবটিতে কাজ করার জন্য আবেদন করতে পারেন। একই ভাবে একটি কাজে আপনার মত আরও অনেক ওয়ার্কার আবেদন করবে। এবং ক্লাইন্ট তখন বিভিন্ন জিনিস যাচাই বাছাই এবং ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে আপনাদের মধ্য থেকে একজন বা একের বেশি জনকে কাজটি করতে দিবে।
এবং এই ভাবে আপনি যদি কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করে ক্লাইন্টের কাছে জমা দিতে পারেন তাহলে ক্লাইন্ট আপনাকে পেমেন্ট করে দিবে।
আচ্ছা, সেটা তো বুঝলাম! তাহলে ক্লাইন্ট আমাকে কিভাবে পেমেন্ট করবে? আর আমি টাকাটা পাবই বা কিভাবে?
হ্যা, কাজটি যদি আপনি সফলভাবে করে দিতে পারেন তাহলে ক্লাইন্ট আপানকে সরাসরি পেমেন্ট করবে না। ক্লাইন্ট পেমেন্ট করবে সেই ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যেখানে আপনার সাথে ক্লাইন্টের পরিচয় হয়েছে। মানে, আপনি যেই ওয়েবসাইট থেকে কাজটি পেয়েছিলেন, ক্লাইন্ট সেখানে পেমেন্ট করবে। এবং সেই ওয়েবসাইট আপনার অ্যাকাউন্টে মোট পেমেন্ট থেকে ১০% চার্জ কেটে রেখে দিয়ে বাকি টাকা আপনাকে পরিশোধ করে দিব। এই টাকা প্রথমে আপনার অনলাইন বা ওই ফ্রীল্যান্সিং সাইটের অ্যাকাউন্টে আসবে এবং সেখান থেকে আপনি চাইলে সরাসরি বাংলাদেশী অনলাইন সাপোর্ট করে এমন যে কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন।
অনেকেই তো বলে টাকা তুলতে গেলে নাকি পেপাল, মাস্টারকার্ড ইত্যাদি থাকতে হবে?
এক কথায় আমি বলব, না। ফ্রীল্যান্সিং যে টপ সাইট গুলো আছে সেখান থেকে আপনি সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই টাকা তুলতে পারবেন। এমনকি টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ডলারে আসলেও আপনি ব্যাংকে ট্রান্সফার করার পর সেটি টাকায় কনভার্ট হয়ে যাবে। তাই পেমেন্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই।
তবে কিছু সাইট রয়েছে যেখান থেকে টাকা তুলে গেলে একটি মাস্টারকার্ড প্রয়োজন হবে। তবে, মাস্টারকার্ড পাওয়া তেমন কঠিন কিছুই না। Payoneer থেকে আপনারা চাইলে সম্পূর্ণ ফ্রীতেই একটি মাস্টারকার্ড পেতে পারেন। এটি নিয়ে পরে একদিন বিস্তারিত লিখব ইনশাআল্লাহ।
যাই হোক, ওডেস্ক/আপওয়ার্ক, ইল্যান্স, ফ্রীল্যান্সার ইত্যাদি টপ কোয়ালিটি ফ্রীল্যান্সিং সাইট থেকে আপনি সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা তুলতে পারবেন, তাই পেমেন্ট নিয়ে এত চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই।
তাহলে কিভাবে শুরু করবেন?
আশা করি  উপরের লিখা গুলো পড়ে বুঝে গেছেন, যেহেতু এই সেক্টরে কোন ঘুস বা জামানত লাগে না, এবং কাজ শুরু করতে একটাকাও দিতে হয় না কাউকে তাই এখানে আপনার একমাত্র প্রয়োজন হবে ভাল ভাবে কাজ জানা। এখানে যে যত বেশি দক্ষ হতে পারবেন তার আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি। ভাল করে কাজ না জানলে এই সেক্টরে কোনদিনই সফল হওয়া যাবে না। আর তাই কাজ শেখা অত্যন্ত জরূরী।
এই হচ্ছে অনলাইন আয়ের কিছু বেসিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা। যদি আপনি পোস্টটি পুরোপুরি না পড়ে থাকেন তাহলে কোনকিছুই বুঝতে পারবেন না। তাই, পোস্টটি পুরো না পড়েই আমাদের প্রশ্ন করবেন না।


ভাল থাকবেন সবাই। পোস্টটি ভাল লাগলে ফেসবুকে আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আল্লাহ হাফিজ।